মুমিনদের সাথে ফেরেস্তাদের সম্পর্ক
কাসেম বিন আব্বাস মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
প্রথম খুতবাহ
إنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرْهُ وَنَعُوْذُ بِاللهَ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالَنَا مَنْ يَّهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُّضْلِلْهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ. وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ.
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾ (سورة آل عمران: 102)
﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا﴾ (سورة النساء:1)
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا﴾ (سورة الأحزاب: 70-71)
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهُ وَخَيْرِ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَشَرَّ الْأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٍ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٍ وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِيْ النَّارِ. (أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطاَنِ الرَّجِيْمِ)
মুমিনরা হল আল্লাহর আনুগত্যশীল বান্দা। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভালবাসেন। দুনিয়া-আখিরাতে তাদেরকে প্রশান্তিময় জীবন দান করেন। কেননা তারা হলেন সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ﴾ (سورة التوبة: (4)
‘নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন’ (সূরা তওবাহ:৪)
﴿إِنَّ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ﴾ (سورة البينة:7)
‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্ৰেষ্ঠ’(সূরা বাইয়্যেনাহ:৭)।
আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থ হলো; তাঁর অস্তিত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। কোন সন্দেহ সংশয় ছাড়া এ বিশ্বাস স্থাপন করা যে, তিনি একমাত্র প্রতিপালক (রব্ব), তিনি একমাত্র উপাস্য (মাবুদ) এবং তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণ রয়েছে।
মুমিনদের মাঝে সকলে সমান ঈমানের অধিকারী না বরং কেউ অধিক শক্তিশালী ঈমানের অধিকারী, আবার কেউ দুর্বল ঈমানের অধিকারী। ঈমানদারের ঈমানে তারতম্য রয়েছে। এ মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَلاَ تَعْجِزْ وَإِنْ أَصَابَكَ شَىْءٌ فَلاَ تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا . وَلَكِنْ قُلْ قَدَرُ اللَّهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ))(رواه مسلم).
আবু হুরাইরাহ (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ শক্তিধর ঈমানদার দুর্বল ঈমানদারের তুলনায় আল্লাহর নিকট উত্তম ও অতীব পছন্দনীয়। তবে প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে, যাতে তোমার উপকার রয়েছে তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা কর। তুমি অক্ষম হয়ে যেও না। এমন বলো না যে, যদি আমি এমন এমন করতাম তবে এমন হত না। বরং এ কথা বলে যে, আল্লাহ তা’আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কেননা لَوْ (যদি) শব্দটি শয়তানের কর্মের দুয়ার খুলে দেয়। (সহিহ মুসলিম)
উপরোক্ত হাদীসে দুপ্রকার ঈমানদারের কথা উল্লেখ হয়েছে:
(১) শক্তিশালী ঈমানদার। শক্তিশালী ঈমানদার হল, যে ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জনের মাধ্যমে শক্তিশলী। যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে, যা তার ঈমানকে মজবুত ও বৃদ্ধি করে। যাতে ব্যক্তি কল্যাণকর কাজের আদেশ ও অকল্যালকর কাজের নিষেধাজ্ঞাদানে অধিক উৎসাহী হয়। অন্যকে নসীহত পেশ করে। অন্যকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকে। আর যখন সৎ কাজ বৃদ্ধি পায় তখন তার মাধ্যমে তার ঈমানও বৃদ্ধি পায়। আর যখনই সৎকর্ম পালনে হ্রাস পায়, তাতে অনমনযোগী হয় গুনাহের প্রতি উৎসাহী হয় তখন ঈমানও কমতে থাকে।
(২) দূর্বল ঈমানদার। দূর্বল ঈমানদার হল, যে ব্যক্তি তার ঈমানে দূর্বল। আর এ দূর্বলতা তার জ্ঞানের দিক থেকে দূর্বলতা। আল্লাহ বিষয়ে জ্ঞানের সল্পতা। আল্লাহভীতিতে সল্পতা বা ত্রুটি। সাধারণত এ প্রকার ব্যক্তিরা গুনাহে অধিক লিপ্ত হয়ে থাকে কেননা তারা দূর্বল ঈমানদার।
যারা শক্তিশালী ঈমানদার তাদেরকে আল্লাহ তাআলা অধিক ভালবাসেন। আর যাদেরকে আল্লাহ তাআলা ভালবাসেন তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্টিকুলও ভালবাসে।
তাইতো বলব, আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের সাথে ফেরেস্তাগণের সম্পর্ক হল অতীব গভীর। যা নিম্নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হল:
প্রথমত: মু’মিনদের প্রতি তাদের গভীর ভালবাসা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ((إَِذَا أَحَبَّ اللَّهُ الْعَبْدَ نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلاَنًا فَأَحْبِبْهُ. فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، فَيُنَادِي جِبْرِيلُ فِي أَهْلِ السَّمَاءِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلاَنًا فَأَحِبُّوهُ. فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الأَرْضِ)) (متفق عليه)
আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তিনি জিবরীল আলাইহিস সালাম কে ডেকে বলেন, নিশ্চই আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। তখন জিবরীল আলাইহিস সালামও তাকে ভালবাসেন এবং জিবরীল আলাইহিস সালাম আকাশবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালবাসেন। কাজেই তোমরা তাকে ভালবাস। তখন আকাশবাসী তাকে ভালবাসতে থাকে। এরপর পৃথিবীতেও তাকে গ্রহণ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়” (বুখারী ও মুসলিম)।
দ্বিতীয়ত: মু’মিনদেরকে সুপথের দিশা দান
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا السَّلاَم لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ بِمِائَةِ امْرَأَةٍ تَلِدُ كُلُّ امْرَأَةٍ غُلاَمًا يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللهِ فَقَالَ لَهُ الْمَلَكُ قُلْ إِنْ شَاءَ اللهُ فَلَمْ يَقُلْ وَنَسِيَ فَأَطَافَ بِهِنَّ وَلَمْ تَلِدْ مِنْهُنَّ إِلاَّ امْرَأَةٌ نِصْفَ إِنْسَانٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللهُ لَمْ يَحْنَثْ وَكَانَ أَرْجى لِحَاجَتِهِ)) (رواه البخاري)
আবু হুরাইরাহ (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, দাউদ (আঃ)-এর পুত্র সুলায়মান (আঃ) একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আজ রাতে আমি আমার একশ’ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হব এবং তাদের প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান প্রসব করবে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এ কথা শুনে একজন ফেরেস্তা বলেছিলেন, আপনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলুন; কিন্তু তিনি এ কথা ভুলক্রমে বলেননি। এরপর তিনি তার স্ত্রীগণের সঙ্গে মিলিত হলেন; কিন্তু তাদের কেউ কোন সন্তান প্রসব করল না। কেবল এক স্ত্রী একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যদি সুলায়মান (আঃ) ‘ইনশাআল্লাহ্’ বলতেন, তাহলে তাঁর শপথ ভঙ্গ হত না। আর তাতেই ভালভাবে তার আশা মিটত” (বুখারী)।
عن حسّان بن ثابت: أن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- دعا له، فقال اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ)) (بخاري)
হাসসান বিন সাবেত (রা:) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দুআ করেছেন। (হে আল্লাহ! তুমি জিব্রীল (আ.)-এর মাধ্যমে তাকে সাহায্য কর’ (বুখারী)।
তৃতীয়ত: মুমিনদের জন্য অনুগ্রহ কামনা করেন
﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ﴾ (الأحزاب:56)
“আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন, তাঁর ফেরেস্তাগণ নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে”(সূরা আহযাব:৫৬)।
﴿هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ﴾ (الأحزاب:43)
“তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন, আর তাঁর ফেরেশতারাও (তোমাদের জন্য) তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে আনার জন্যে। মু’মিনদের প্রতি তিনি পরম দয়ালু”(সূরা আহযাব:৪৩)।
عَنْ أَبِى أُمَامَةَ الْبَاهِلِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِى جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ)) (أخرجه والطبرانى)
আবু উমামাহ আল-বাহিলী (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ, তার ফেরেস্তাগণ এবং আসমান-যমীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়’ (ত্ববারানী)।
عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: ((مَا مِنْ رَجُلٍ يَعُودُ مَرِيضًا مُمْسِيًا إِلاَّ خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُصْبِحَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْ أَتَاهُ مُصْبِحًا خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ)) (أبو داود)
আলী (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কেউ বিকাল বেলা কোন রোগীকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার সাথে রওয়ানা হয় এবং তারা তার জন্য ভোর হওয়া পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকে। উপরন্তু তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরি করা হয়। আর কোন ব্যক্তি দিনের প্রথমভাগে রোগী দেখতে গেলে তার সাথেও সত্তর হাজার ফেরেশতা রওয়ানা হয় এবং তারা সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। তাকেও জান্নাতে একটি বাগান দেয়া হয়’। (আবু দাউদ, সহীহ মাওকুফ : সহীহাহ (১৩৬৭)।
৪র্থ: মুমিনদের দুআতে তারা আমীন (হে আল্লাহ কবুল কর!) বলেন
عن أبي الدرداء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : ((دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ)) (مسلم)
আবু দারদা (রা:) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে থাকে “আমীন” এবং তোমার জন্যও অবিকল তাই’। (সহিহ মুসলিম)
প্রিয় ভাই! আল্লাহ তাআলা আপনাকে মানুষ করে সৃষ্টি করে সকল সৃষ্টির সেরা করেছেন। শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন সবার উপর। এমনকি নূরের তৈরী ফেরেস্তামণ্ডলীরাও আপনার জন্য দুআ দেন, কল্যাণ কামনা করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মর্যদাপূর্ণ আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন
أقُولُ قَوْلي هَذَا وَأسْتغْفِرُ اللهَ العَظِيمَ لي وَلَكُمْ، فَاسْتغْفِرُوهُ يَغْفِرْ لَكُمْ إِنهُ هُوَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ، وَادْعُوهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ إِنهُ هُوَ البَرُّ الكَرِيْمُ.
দ্বিতীয় খুতবাহ
اَلْحَمْدُ لِلَّهَ عَلَى إحْسَانِهِ، وَالشُّكْرُ لَهُ عَلَى تَوْفِيْقِهِ وَامْتِنَانِهَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إَلاَّ اللهُ تَعْظِيْمًا لِشأْنِهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ الدَّاعِيْ إِلَى رِضْوَانِهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيْمًا.
৫ম: মুমিনদের জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন বরং তিনি ক্ষমা করতেই অধিক ভালবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ﴾ (سورة البقرة:222)
“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তওবাহ্কারীকে ভালোবাসেন আর পবিত্রতা অবলম্বীদেরও ভালোবাসেন।”(সূরা বাকারাহ:২২২)
যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে ক্ষমা করতে পছন্দ করেন অতএব আল্লাহর বিশেষ বাহিনী ফেরেস্তাগণ তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ﴾ (غافر:7)
“যারা আরশ বহন করে আছে, আর যারা আছে তার চারপাশে, তারা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে আর তাঁর প্রতি ঈমান পোষণ করে আর মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তোমার রহমত ও জ্ঞান দিয়ে সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছ, কাজেই যারা তওবাহ করে ও তোমার পথ অনুসরণ করে তাদেরকে ক্ষমা কর, আর জাহান্নামের আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা কর”(মুমিন:৭)।
﴿تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْ فَوْقِهِنَّ وَالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَلَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ﴾ (الشورى:5)
“আকাশ উপর থেকে ফেটে পড়ার উপক্রম হয় (সুমহান আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ভীতিতে) আর ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং যারা পৃথিবীতে আছে তাদের জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা করে। জেনে রেখ, আল্লাহ, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু” (সূরা শুরা:৫)।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : ((إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَجْلِسِهِ تَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ مَا لَمْ يُحْدِثْ وَأَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَتِ الصَّلاَةُ تَحْبِسُهُ)) (مسلم)
আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সলাতের পর উক্ত স্থানে বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেস্তাগণ এ বলে তার জন্য দু’আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহমত দান কর।
আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ সলাতরত বলেই গণ্য হবে যতক্ষণ সে সলাতের জন্য অপেক্ষামান থাকে’।(সহীহ মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর একনিষ্ঠ মুমিন বান্দা হিসেবে কবুল করুন। তাঁর প্রিয় মুমিন বান্দাদের জন্য যে মর্যাদা রেখেছেন, সে মর্যাদা আমাদেরও দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।
চলবে..