ধূমপান হারাম

ধূমপান হারামঃ

মুলঃ ডঃ আব্দুল ওয়াহেদ হাফিযাহুল্লাহ।
অনুবাদঃ শাইখ মুখলিসুর রহমান মাদানী।

জ্ঞান ও ব্রেন নিয়ে খেল-তামাশা করে উহাকে নষ্ট করা মহা অপরাধ। দ্বীন ইসলামে ইহাকে কবীরাহ্ গুনাহ্ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জ্ঞান ও ব্রেনকে নষ্টকারী প্রধানতম জিনিষ হলঃ মদ ও নেশা জাতীয় দ্রব্য। আর এ জন্যই ইসলামী শরীয়তে যাবতীয় নেশা জাতীয় দ্রব্যকে হারাম করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ্ বলেনঃ


﴿وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا﴾ ]الإسراء: ৭০[

অর্থঃ নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (বানী ইসরাঈল #৭০)।
ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ্ বলেনঃ “আল্লাহ্ মানুষকে সম্মানিত করার অন্যতম দিক হলঃ তিনি তাকে পরিপূর্ণ ও উত্তম আকৃতিতে সৃষ্ঠি করেছেন।
তাকে কান, চক্ষু ও অন্তর দান করেছেন। যা দ্বারা সব কিছু বুঝে সে উপকৃত হয়। ভাল মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। দ্বীন ও দুনিয়ার ব্যাপারে কোনটা উপকারী ও ক্ষতিকর তা বুঝার শক্তি মহান আল্লাহ্ মানুষকে দিয়েছেন।
আল্লাহ্ কর্তৃক মানুষকে সম্মানিত করার অংশ হলঃ তাকে তিনি ভাল জিনিষ পছন্দ করে তা উপভোগ করা এবং মন্দ জিনিষ চিনে তা থেকে দূরে থাকার যোগ্যতা দিয়েছেন।
দূঃখ জনক হলেও সত্য যে, অনেক লোক আল্লাহ্ প্রদত্ব এ সম্মানকে পরিহার করে আল্লাহর শরীয়ত বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়। ফলে সে আল্লাহর নিষিদ্ধ হারাম ও ঘৃণিত বস্তু গ্রহণ করে। যেমনঃ বর্তমান সময়ে অনেক মুসলিমরা ঘৃণিত ও জঘণ্য ধূমপানের ফিতনায় পতিত হয়েছে। আফসোসের বিষয় হলঃ এ ব্যাধি নারী-পুরুষ, ছোট বড় সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ ঘৃণিত জিনিষ গ্রহণ করা সম্পদ ও সুস্থতার ক্ষেত্রে মানুষের জন্য এক মহাবিপদ। অথচ সম্পদ ও সুস্থতা মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। এ দুয়ের মূল মালিক হলেন মহান আল্লাহ্। তাই হারাম ও পাপাচার কাজে সম্পদ ও সুস্থতাকে নষ্ট করা জায়েয নয়।
এ জন্য ইসলাম সম্পদের অপচয় করা হারাম করেছে। মানুষের উপরে নিষিদ্ধ করেছে নিজেকে হত্যা করা বা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়াকেও। অথবা এমন কোনো জিনিষ গ্রহণ করাও ইসলাম হারাম করেছে যা দ্বারা মানুষের ক্ষতি হতে পারে।
আশ্চর্য জনক হলেও সত্য যে, অনেক মানুষ আল্লাহর নিয়ামতকে ওয়ালে নিক্ষেপ করে, নিজের জ্ঞানের দ্বারা স্বীয় উপকার-অপকারের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে এমন সকল বস্তু ক্রয় ও গ্রহণ করে যা তার আত্মার জন্য ক্ষতিকর ও উহাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়!?
তাই মানুষকে আপনি দেখবেন নিয়মিত সিগারেট ও ধূমপানের ফলে নিজের শরীরকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এ জন্য সে নিজের কষ্টার্জিত সম্পদও ব্যয় করছে। ফলে নিজ সম্পদ দিয়েই সে নিজের সুস্থতাকে নষ্ট করছে। আবার সে যত দামই হোক না কেন তা ক্রয়ে সদা প্রস্তুত!?
যদি এই ব্যক্তি তার এ সম্পদ নিজ বা তার পরিবার বা কল্যাণকর কাজে ব্যয় করত তবে উহা তার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য মঙ্গলময় হত। হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ


্রنِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالفَرَاغُ،

অর্থঃ ইব্নে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাঃ বলেছেনঃ দু’টি নিয়ামতের ব্যাপারে মানুষ ধোঁকা ও উদাসীনতায় রয়েছেঃ ১। সুস্থতা, ২। অবসর। (বুখারী)।
আল্লাহর রাসূল সাঃ আম্র বিন আ’স রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেনঃ


্রنِعْمَ الْمَالُ الصَّالِحُ لِلْمَرْءِ الصَّالِحِ

অর্থঃ উত্তম ব্যক্তির নিকটে ভাল সম্পদ কতইনা চমৎকার। (আলবানী রাঃ সহীহ্ বলেছেন)।


্রلاَ تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ القِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَ فَعَلَ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ، وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَ أَبْلاَهُ

অর্থঃ আবূ বারযাহ্ আল্ আসলামী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন কোনো বান্দা নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত এক পা সামনে যেতে পারবে নাঃ
১। তার বয়স কোন পথে অতিবাহিত করেছে ?
২। তার ইলম অনুযায়ী কি আমল করেছে ?
৩। তার সম্পদ কোন পথে আয় ও কোন পথে ব্যয় করেছে ?
৪। তার শরীরকে কিসে ক্ষয় করেছে ? (সুনানে তিরমিযী, আলবানী রাহিঃ সহীহ্ বলেছেন)।
অতএব, বান্দা কর্তৃক আল্লাহ্ প্রদত্ব সম্পদ ও সুস্থতার শুকরিয়া আদায় করার নিয়ম হলঃ সে এ দু’টিকে নিজ রব্বের আনুগত্যশীল কাজে তা ব্যবহার করবে।
হে ধূমপায়ী আপনি খেয়াল করে দেখুন, যদি আপনি এমন ফকীর ও নিঃস্ব হতেন ? অথবা স্থায়ী রোগী হতেন তবে আপনার সর্বোচ্চ আকাঙ্খা হতঃ সুস্থতা ও সম্পদ অর্জন।
আর এখন আপনি আল্লাহর রহমতে সুস্থতা, কল্যাণ ও পর্যাপ্ত রিযিক্ব লাভ করেছেন। তাই আপনার উচিৎ, নিয়ামত দাতা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। যেই আল্লাহ্ দয়া করে আপনাকে সম্পদ ও সুস্থতার নিয়ামত দিয়েছেন তিনি আপনার নিকট হতে নিয়ামত ছিনিয়ে নিতে এবং আপনাকে বঞ্চিত করতেও সক্ষম।
ধূমপান ঘৃণিত ও জঘণ্য হারাম। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ


﴿وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ﴾] الأعراف: ১৫৭[

অর্থঃ আর তিনি (রাসূল) তাদের জন্য উত্তম জিনিষ হালাল করেন ও ঘৃণিত জিনিষ তাদের উপরে হারাম করেন। (সূরাহ্ আ’রাফ #১৫৭)।
ধূম পানে আত্মহুতি দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ


﴿وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَبِكُمْ رَحِيمًا * وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا﴾ [النساء: ২৯، ৩০]

অর্থঃ আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর যে কেউ সীমাল�ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরুপ করবে, তাকে খুব শীঘ্রই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজসাধ্য। (সূরাহ্ নিসা #২৯-৩০)।
ধূমপান তথা সিগারেট ও নেশা জাতীয় যাবতীয় জিনিষ গ্রহণ করা হারাম, তার ব্যবসা ও ক্রয় বিক্রয় হারাম। এখন অনেকে শিশা, ডাইল, জর্দা, গুল, খোইনী ইত্যাদি যেকোনো নামে ইহাকে নাম করণ করুকনা কেন তা হারাম।
ইহা অপচয়ের অন্তর্ভূক্ত, আল্লাহ্ বলেনঃ


﴿وَلاَ تُسْرِفُوا إِنَّهُ لاَيُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ﴾ ]الأعراف: ৩১[

অর্থঃ আর তোমরা অপচয় করিও না, নিশ্চয় আল্লাহ্ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না। (সূরাহ্ আ’রাফ #৩১)। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ


﴿إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ﴾ ]الإسراء: ২৭[

অর্থঃ নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সূরাহ্ বাণী ইসরাঈল #২৭)।
আর কোনো মানুষ যদি সম্পদ উপার্জন করে জালিয়ে দেয় তবে তাকে পাগল বলা হবে। অথচ শরীরের বাইরে সম্পদ নষ্ট করা একটি মাত্র বিপদ আর তা হলঃ সম্পদ হারিয়ে ফেলা।
অপর দিকে ধূমপানের দ্বারা নিজ শরীরে টাকা নষ্ট করলে দু’টি বিপদ ঘটেঃ
১। সম্পদ নষ্ট করা,
২। শরীরের ক্ষতি সাধন করা।
এ দ্বারা বাড়ী ঘর, রাস্তা-ঘাট ও মসজিদে আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ


﴿وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ ]الأحزاب: ৫৮[

অর্থঃ আর যারা বিনা অপরাধে মুমিন নর-নারীদেরকে কষ্ট দেয় তারা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপ বহন করে। (সূরাহ্ আহযাব #৫৮)।

মুমিনদের সাথে ফেরেস্তাদের সম্পর্ক

মুমিনদের সাথে ফেরেস্তাদের সম্পর্ক

কাসেম বিন আব্বাস মাদানী

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

 

প্রথম খুতবাহ

إنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرْهُ وَنَعُوْذُ بِاللهَ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالَنَا مَنْ يَّهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُّضْلِلْهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ. وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ  وَرَسُوْلُهُ.

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ﴾ (سورة آل عمران: 102)

﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا﴾ (سورة النساء:1)

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا﴾ (سورة الأحزاب: 70-71)

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهُ وَخَيْرِ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَشَرَّ الْأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٍ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٍ وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِيْ النَّارِ. (أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطاَنِ الرَّجِيْمِ)

মুমিনরা হল আল্লাহর আনুগত্যশীল বান্দা। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভালবাসেন। দুনিয়া-আখিরাতে তাদেরকে প্রশান্তিময় জীবন দান করেন। কেননা তারা হলেন সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ﴾ (سورة التوبة: (4)

‘নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন’ (সূরা তওবাহ:৪)

﴿إِنَّ الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ﴾ (سورة البينة:7)

‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্ৰেষ্ঠ’(সূরা বাইয়্যেনাহ:৭)।

আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থ হলো; তাঁর অস্তিত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। কোন সন্দেহ সংশয় ছাড়া এ বিশ্বাস স্থাপন করা যে, তিনি একমাত্র প্রতিপালক (রব্ব), তিনি একমাত্র উপাস্য (মাবুদ) এবং তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণ রয়েছে।

মুমিনদের মাঝে সকলে সমান ঈমানের অধিকারী না বরং কেউ অধিক শক্তিশালী ঈমানের অধিকারী, আবার কেউ দুর্বল ঈমানের অধিকারী। ঈমানদারের ঈমানে তারতম্য রয়েছে। এ মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَلاَ تَعْجِزْ وَإِنْ أَصَابَكَ شَىْءٌ فَلاَ تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا ‏.‏ وَلَكِنْ قُلْ قَدَرُ اللَّهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ‏))(رواه مسلم).

আবু হুরাইরাহ (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ শক্তিধর ঈমানদার দুর্বল ঈমানদারের তুলনায় আল্লাহর নিকট উত্তম ও অতীব পছন্দনীয়। তবে প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে, যাতে তোমার উপকার রয়েছে তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা কর। তুমি অক্ষম হয়ে যেও না। এমন বলো না যে, যদি আমি এমন এমন করতাম তবে এমন হত না। বরং এ কথা বলে যে, আল্লাহ তা’আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কেননা لَوْ  (যদি) শব্দটি শয়তানের কর্মের দুয়ার খুলে দেয়। (সহিহ মুসলিম)

উপরোক্ত হাদীসে দুপ্রকার ঈমানদারের কথা উল্লেখ হয়েছে:

(১) শক্তিশালী ঈমানদার। শক্তিশালী ঈমানদার হল, যে ব্যক্তি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জনের মাধ্যমে শক্তিশলী। যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে, যা তার ঈমানকে মজবুত ও বৃদ্ধি করে। যাতে ব্যক্তি কল্যাণকর কাজের আদেশ ও অকল্যালকর কাজের নিষেধাজ্ঞাদানে অধিক উৎসাহী হয়। অন্যকে নসীহত পেশ করে। অন্যকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকে। আর যখন সৎ কাজ বৃদ্ধি পায় তখন তার মাধ্যমে তার ঈমানও বৃদ্ধি পায়। আর যখনই সৎকর্ম পালনে হ্রাস পায়, তাতে অনমনযোগী হয় গুনাহের প্রতি উৎসাহী হয় তখন ঈমানও কমতে থাকে।

(২) দূর্বল ঈমানদার। দূর্বল ঈমানদার হল, যে ব্যক্তি তার ঈমানে দূর্বল। আর এ দূর্বলতা তার জ্ঞানের দিক থেকে দূর্বলতা। আল্লাহ বিষয়ে জ্ঞানের সল্পতা। আল্লাহভীতিতে সল্পতা বা ত্রুটি। সাধারণত এ প্রকার ব্যক্তিরা গুনাহে অধিক লিপ্ত হয়ে থাকে কেননা তারা দূর্বল ঈমানদার।

যারা শক্তিশালী ঈমানদার তাদেরকে আল্লাহ তাআলা অধিক ভালবাসেন। আর যাদেরকে আল্লাহ তাআলা ভালবাসেন তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্টিকুলও ভালবাসে।

তাইতো বলব, আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের সাথে ফেরেস্তাগণের সম্পর্ক হল অতীব গভীর। যা নিম্নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হল:

প্রথমত: মু’মিনদের প্রতি তাদের গভীর ভালবাসা

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ((إَِذَا أَحَبَّ اللَّهُ الْعَبْدَ نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلاَنًا فَأَحْبِبْهُ‏.‏ فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، فَيُنَادِي جِبْرِيلُ فِي أَهْلِ السَّمَاءِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلاَنًا فَأَحِبُّوهُ‏.‏ فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الأَرْضِ)) (متفق عليه)

আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তিনি জিবরীল আলাইহিস সালাম কে ডেকে বলেন, নিশ্চই আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। তখন জিবরীল আলাইহিস সালামও তাকে ভালবাসেন এবং জিবরীল আলাইহিস সালাম আকাশবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালবাসেন। কাজেই তোমরা তাকে ভালবাস। তখন আকাশবাসী তাকে ভালবাসতে থাকে। এরপর পৃথিবীতেও তাকে গ্রহণ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়” (বুখারী ও মুসলিম)।

দ্বিতীয়ত: মুমিনদেরকে সুপথের দিশা দান

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا السَّلاَم لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ بِمِائَةِ امْرَأَةٍ تَلِدُ كُلُّ امْرَأَةٍ غُلاَمًا يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللهِ فَقَالَ لَهُ الْمَلَكُ قُلْ إِنْ شَاءَ اللهُ فَلَمْ يَقُلْ وَنَسِيَ فَأَطَافَ بِهِنَّ وَلَمْ تَلِدْ مِنْهُنَّ إِلاَّ امْرَأَةٌ نِصْفَ إِنْسَانٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللهُ لَمْ يَحْنَثْ وَكَانَ أَرْجى لِحَاجَتِهِ)) (رواه البخاري)

আবু হুরাইরাহ (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, দাউদ (আঃ)-এর পুত্র সুলায়মান (আঃ) একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আজ রাতে আমি আমার একশ’ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হব এবং তাদের প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান প্রসব করবে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এ কথা শুনে একজন ফেরেস্তা বলেছিলেন, আপনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলুন; কিন্তু তিনি এ কথা ভুলক্রমে বলেননি। এরপর তিনি তার স্ত্রীগণের সঙ্গে মিলিত হলেন; কিন্তু তাদের কেউ কোন সন্তান প্রসব করল না। কেবল এক স্ত্রী একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যদি সুলায়মান (আঃ) ‘ইনশাআল্লাহ্’ বলতেন, তাহলে তাঁর শপথ ভঙ্গ হত না। আর তাতেই ভালভাবে তার আশা মিটত” (বুখারী)।

عن حسّان بن ثابت: أن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- دعا له، فقال اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ)) (بخاري)

হাসসান বিন সাবেত (রা:) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দুআ করেছেন। (হে আল্লাহ! তুমি জিব্রীল (আ.)-এর মাধ্যমে তাকে সাহায্য কর’ (বুখারী)।

তৃতীয়ত: মুমিনদের জন্য অনুগ্রহ কামনা করেন

﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ﴾ (الأحزاب:56)

“আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন, তাঁর ফেরেস্তাগণ নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে”(সূরা আহযাব:৫৬)।

﴿هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ﴾ (الأحزاب:43)

“তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন, আর তাঁর ফেরেশতারাও (তোমাদের জন্য) তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে আনার জন্যে। মু’মিনদের প্রতি তিনি পরম দয়ালু”(সূরা আহযাব:৪৩)।

عَنْ أَبِى أُمَامَةَ الْبَاهِلِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِى جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ)) (أخرجه والطبرانى)

আবু উমামাহ আল-বাহিলী (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ, তার ফেরেস্তাগণ এবং আসমান-যমীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়’ (ত্ববারানী)।

عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: ((مَا مِنْ رَجُلٍ يَعُودُ مَرِيضًا مُمْسِيًا إِلاَّ خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُصْبِحَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْ أَتَاهُ مُصْبِحًا خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ)) (أبو داود)

আলী (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কেউ বিকাল বেলা কোন রোগীকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার সাথে রওয়ানা হয় এবং তারা তার জন্য ভোর হওয়া পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকে। উপরন্তু তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরি করা হয়। আর কোন ব্যক্তি দিনের প্রথমভাগে রোগী দেখতে গেলে তার সাথেও সত্তর হাজার ফেরেশতা রওয়ানা হয় এবং তারা সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। তাকেও জান্নাতে একটি বাগান দেয়া হয়’। (আবু দাউদ, সহীহ মাওকুফ : সহীহাহ (১৩৬৭)।

৪র্থ: মুমিনদের দুআতে তারা আমীন (হে আল্লাহ কবুল কর!) বলেন

عن أبي الدرداء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال :‏ ((دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ)) (مسلم)‏

আবু দারদা (রা:) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে থাকে “আমীন” এবং তোমার জন্যও অবিকল তাই’। (সহিহ মুসলিম)

প্রিয় ভাই! আল্লাহ তাআলা আপনাকে মানুষ করে সৃষ্টি করে সকল সৃষ্টির সেরা করেছেন। শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন সবার উপর। এমনকি নূরের তৈরী ফেরেস্তামণ্ডলীরাও আপনার জন্য দুআ দেন, কল্যাণ কামনা করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মর্যদাপূর্ণ আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন

أقُولُ قَوْلي هَذَا وَأسْتغْفِرُ اللهَ العَظِيمَ لي وَلَكُمْ، فَاسْتغْفِرُوهُ يَغْفِرْ لَكُمْ  إِنهُ هُوَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ،  وَادْعُوهُ يَسْتجِبْ لَكُمْ إِنهُ هُوَ البَرُّ الكَرِيْمُ.

 

দ্বিতীয় খুতবাহ

اَلْحَمْدُ لِلَّهَ عَلَى إحْسَانِهِ، وَالشُّكْرُ لَهُ عَلَى تَوْفِيْقِهِ وَامْتِنَانِهَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إَلاَّ اللهُ تَعْظِيْمًا لِشأْنِهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ الدَّاعِيْ إِلَى رِضْوَانِهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيْمًا.

৫ম: মুমিনদের জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন বরং তিনি ক্ষমা করতেই অধিক ভালবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ﴾ (سورة البقرة:222)

“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্‌ তওবাহ্কারীকে ভালোবাসেন আর পবিত্রতা অবলম্বীদেরও ভালোবাসেন।”(সূরা বাকারাহ:২২২)

যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে ক্ষমা করতে পছন্দ করেন অতএব আল্লাহর বিশেষ বাহিনী ফেরেস্তাগণ তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ﴾ (غافر:7)

“যারা আরশ বহন করে আছে, আর যারা আছে তার চারপাশে, তারা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে আর তাঁর প্রতি ঈমান পোষণ করে আর মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তোমার রহমত ও জ্ঞান দিয়ে সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছ, কাজেই যারা তওবাহ করে ও তোমার পথ অনুসরণ করে তাদেরকে ক্ষমা কর, আর জাহান্নামের আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা কর”(মুমিন:৭)।

﴿تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْ فَوْقِهِنَّ وَالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَلَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ﴾ (الشورى:5)

“আকাশ উপর থেকে ফেটে পড়ার উপক্রম হয় (সুমহান আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ভীতিতে) আর ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং যারা পৃথিবীতে আছে তাদের জন্য (আল্লাহর নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা করে। জেনে রেখ, আল্লাহ, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু” (সূরা শুরা:৫)।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : ((إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَجْلِسِهِ تَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ مَا لَمْ يُحْدِثْ وَأَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَتِ الصَّلاَةُ تَحْبِسُهُ)) (مسلم)‏

আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সলাতের পর উক্ত স্থানে বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেস্তাগণ এ বলে তার জন্য দু’আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহমত দান কর।

আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ সলাতরত বলেই গণ্য হবে যতক্ষণ সে সলাতের জন্য অপেক্ষামান থাকে’।(সহীহ মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর একনিষ্ঠ মুমিন বান্দা হিসেবে কবুল করুন। তাঁর প্রিয় মুমিন বান্দাদের জন্য যে মর্যাদা রেখেছেন, সে মর্যাদা আমাদেরও দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।

চলবে..

আল্লাহর কালাম বা কথা বলার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের আক্বীদাহ

 

আল্লাহর কালাম বা কথা বলার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদার সারসংক্ষেপ:
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত বিশ্বাস করেন যে,
১- আল্লাহ তা‘আলার কথা বলেন, বাক্য বিনিময় করেন, ব্যক্ত করেন ও ডাকেন।
২- আল্লাহ তা‘আলার কথা বলা অক্ষর ও বর্ণের মাধ্যমে হয়। সেটা যে কোনো ভাষায় হতে পারে।
৩- আল্লাহ তা‘আলার বাণীর আওয়াজ রয়েছে, যা শোনা যায়।
৪- আল্লাহ তা‘আলার বাণী বলে তাঁর নিজেরই কথা বুঝানো হয়, অন্য কারো কথা নয়।
৫- আল্লাহ তা‘আলার বাণী সৃষ্ট নয়, কারণ তা তাঁর গুণ। আল্লাহ তা‘আলার কোনো গুণকে সৃষ্ট বলা যাবে না।
৬- আল্লাহ তা‘আলার বাণী তাঁর কাছ থেকে এসেছে এবং তাঁরই দিকে আবার ফিরে চলে যাবে।
৭- আল্লাহ তা‘আলার বাণীর আশ্রয় অবলম্বন করা যায়।
৮- আল্লাহ তা‘আলার বাণীর শপথ করা যায় ও অসীলা প্রদান করা যায়।
৯- আল্লাহ তা‘আলার বাণী লিখিতও হতে পারে, আবার শোনা জিনিসও হতে পারে।
১০- আল্লাহ তা‘আলার বাণী তাঁর সত্তাগত ও কর্মগত বা ইচ্ছাকৃত গুণের অন্তর্ভুক্ত।
১১- আল্লাহ তা‘আলার বাণী তাঁর সাথেই সম্পৃক্ত; তাঁর থেকে পৃথক কোনো কিছু হয়ে যায়নি।
১২- আল্লাহ তা‘আলার বাণী দ্বারা তাঁর গুণান্বিত হওয়ার কোনো শুরু নেই, কোনো শেষ নেই।
১৩- আল্লাহ তা‘আলার বাণী উত্তম বাণী; যার সাথে সৃষ্টিকুলের কারো বাণীর সাদৃশ্য কিংবা তুলনা করা যাবে না।
১৪- আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বাণীকে যাকে ইচ্ছা শোনান, তিনি তাঁর ফিরিশতাদের, নবী-রাসূলদের শোনান। আর আখেরাতে সকল বান্দাদের শোনাবেন। বিশেষ করে জান্নাতীদের শোনাবেন।
১৫- আল্লাহ তা‘আলা মূসা আলাইহিস সালামের সাথে স্বয়ং কথা বলেছেন, গাছ থেকে তাঁরই শব্দ মূসা আলাইহিস সালাম শুনেছিলেন।
১৬- আল্লাহ তা‘আলার বাণী কোনো দিন নিঃশেষ হবে না। যত পানি আছে তা কালি বানালে আর যত গাছ আছে তা কলম বানালেও আল্লাহর বাণী লিখে শেষ করা যাবে না।
১৭- আল্লাহর তা‘আলার বাণীর মধ্যে রয়েছে, তাওরাত, যাবূর, ইঞ্জীল ও কুরআন, অনুরূপ ইবরাহীমের সহীফা ও মূসার সহীফা।
১৮- কুরআনে কারীম আল্লাহ তা‘আলার বাণী, তার সূরা, আয়াত, বাক্য দিয়ে তিনি কথা বলেছেন। সে বাক্য ও বাণী শব্দের সমষ্টি ও অর্থের সম্ভার বিশিষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কারীমকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বেকার কারও উপরে নাযিল করেননি। কুরআনে কারীমকে আল্লাহ তা‘আলা জিবরীলকে শুনিয়েছেন, জিবরীল তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনিয়েছেন, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তার উম্মতকে শুনিয়েছেন। জিবরীল ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দায়িত্ব কেবল তা গ্রহণ করা, প্রচার করা ও আদায় করা। এ কুরআন লাওহে মাহফূযে লিখিত, হুবহু তা-ই আমাদের গ্রন্থসমূহে লিখিত; যা একজন তেলাওয়াতকারী তেলাওয়াত করে থাকে। যারা পাঠকারী তারা তাদের আওয়াজে পাঠ করে থাকে, যারা শুনে তারা আল্লাহর বাণীকে তাদের কান দিয়ে উক্ত আওয়াজে শুনে। যারা কপি করে, যা ছাপায় তারা এ বাণীকেই কপি করে ও এ বাণীকেই ছাপায়। তা হুবহু তা-ই যা মুখস্থকারীর অন্তরে সংরক্ষিত। তার বর্ণ ও অর্থ সবই আল্লাহর। সুতরাং যে কেউ কুরআন শুনে তা সৃষ্ট বলবে সে কাফের হয়ে যাবে। কুরআন পড়ার সময় মানুষের কণ্ঠস্বর, কাগজ, কালি, বাঁধাই সামগ্রী এগুলো সৃষ্ট ও বানানো জিনিস।
১৯- আল্লাহ তা‘আলার বাণী বিভাজন করা যায়, অংশ বিশেষ নির্ধারণ করা যায়, কিছু অংশ বলা ও পড়া যায়।
২০- আল্লাহর বাণী সব একই বাণী নয়, সুতরাং যা কুরআন তা হুবহু তাওরাত বা ইঞ্জীলে থাকা বাণী নয়। কুরআনে এমন সব অর্থ সম্ভার এসেছে যা তাওরাত কিংবা ইঞ্জীলের নয়। অনুরূপ ইঞ্জীল ও তাওরাতে যে সব অর্থসম্ভার এসেছে তা পুরোপুরি কুরআনে নয়।
২১- আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলেছেন, কুরআন আরবীতে, তাওরাত হিব্রুতে, আর ইঞ্জীল সুরিয়ানী ভাষায়।
২২- আল্লাহ তা‘আলার বাণী কিছু অংশের উপর অপর কিছু অংশের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। যেমন, সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাসের ফযীলত অন্যান্য সূরার চেয়ে বেশি।
২৩- আল্লাহ তা‘আলার বাণী এক অংশের পরে আরেক অংশ আল্লাহ তা‘আলা কথা বলেছেন এবং এভাবেই আলাদা আলাদা পরপর সময়ে নাযিল করেছেন।
……………………………………………..
ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

খুতবাহ: বিষয়: আত্ম-পর্যালোচনা

মসজিদে নববীর খুতবাহ | বিষয়: আত্ম-পর্যালোচনা | খতীব, শাইখ ড. আব্দুল মুহসীন আল কাসেম | অনুবাদ: হারুনুর রশীদ ত্রিশালী

প্রথম খুতবাহ

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليما كثيرا.

অতপর:

আল্লাহর বান্দাগণ! আপনারা যথাযথভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করুন। কেননা তাকওয়া হচ্ছে অধিক লাভজনক উপার্জন এবং সর্বোত্তম উপহার।

হে মুসলমানগণ!

মানুষের মাঝে মাস ও বছরসমূহের পর্যায়ক্রমে আগমন আল্লাহর বিশাল নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন: [ আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী এবং তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে।* আর তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তোমরা তাঁর কাছে যা কিছু চেয়েছ; তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ অতিমাত্রায় জালিম, অকৃতজ্ঞ। ] সূরা ইব্রাহীম: ৩৩-৩৪।

যে সময়গুলোর মূল্যায়নে পরকালে উপকারে আসে তা যারা অবমূল্যায়ন করে তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা তিরস্কার করেছেন। তিনি বলেন: [ আল্লাহ বলবেন, ’আমরা কি তোমাদেরকে এতো দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে চাইলে উপদেশ গ্রহণ করতে পারতে? আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। কাজেই তোমরা শাস্তি আস্বাদন কর; আর জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। ] সূরা ফাতির: ৩৭। তাছাড়া এমন দুটো নেয়ামত রয়েছে যেগুলোকে মূল্যায়ন না করলে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অচিরেই অনুশোচনায় পড়বে। রাসূল সাঃ বলেন: ( দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত; সুস্থতা ও অবসর সময়। ) সহীহ বুখারী। আল্লাহ তায়ালা কুরআনের বহু আয়াতে সময়ের বিভিন্ন অংশের শপথ করেছেন, যেমন: রাত, দিন, ফজর, সকাল, আসর ও যোহা। আমরা আমাদের জীবন থেকে পূর্ণ একটি বৎসরকে বিদায় দিতে উপনীত হতে যাচ্ছি, এ বছরের আমাদের আমলগুলোকেও বিদায় দিচ্ছি যা আমাদেরই সামনে হাশরের দিন প্রকাশ করা হবে! অতীত তার বিশাল স্মৃতি নিয়ে কত দ্রুত চলে যায়!

রাত ও দিনসমূহ হচ্ছে আমলের ভাণ্ডার, জীবনের বিভিন্ন ধাপ, নতুনকে পুরান করে দেয় এবং দূরবর্তী বস্তুকে নিকটবর্তী করে দেয়। দিন অতিবাহিত হচ্ছে, বছর চলে যাচ্ছে আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম পর্যায়ক্রমে পরকাল অভিমুখে গমন করছে। এটা আগমন করছে তো ওটা দূরে সরে যাচ্ছে, একজন সুস্থ তো অন্যজন অসুস্থ; সকলেই যে আল্লাহর দিকেই গমণ করছে। রাসূল সাঃ বলেন: ( বস্তুতঃ সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে [আমলের বিনিময়ে] বিক্রি করে। অতঃপর হয় সে নিজেকে [আযাব থেকে] মুক্ত করে অথবা সে তার নিজের ধ্বংস সাধন করে। ) সহীহ মুসলিম।

কালের আবর্তনে দুঃখ বেদনা আনন্দে পরিণত হয়, আনন্দ উল্লাস বেদনা ও বিষাদে রূপ নেয়। কারো কারো কাছে দিনগুলো বছরের ন্যায় দীর্ঘ মনে হয়, আবার কারো কাছে মনে হয় বছরগুলো যেন দিনের মত দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে! তবে বুদ্ধিমান তো সেই ব্যক্তি যিনি এ থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: [ আর আল্লাহ রাত ও দিনের আবর্তন ঘটান, নিশ্চয়ই এতে শিক্ষা রয়েছে অন্তরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য। ] সূরা নূর: ৪৪।

মানুষের কৃতকর্মগুলো নিয়ে বছর চলে যায় এবং অচিরেই তা তাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। [ সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে কী আগে পাঠিয়েছে ও কী পিছনে রেখে গেছে। ] সূরা আল কিয়ামাহ: ১৩। তাই আপনি আপনার জীবনের অতীত পাতায় দৃষ্টি বুলিয়ে দেখুন; সেখানে আপনার আখেরাতের জন্য কী সঞ্চয় করে রেখেছেন? নিরবে-নির্জনে বসে বিশ্বস্ততার সাথে নিজেই নিজের আত্মার হিসাব নিন, মুহাসাবা করুন। মাইমূন বিন মেহরান রহঃ বলেন: ( বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুত্তাকী হতে পারে না যতক্ষণ না সে -যৌথ মালিকানায় একে অপরের কাছ থেকে যেমন হিসাব নেয় তার চেয়েও কঠিনভাবে- নিজের নফসের হিসাব নেয়! )

বস্তুত রাত দিনের অতিক্রমের ফলে ইহকাল দূরে সরে যাচ্ছে আর পরকাল এগিয়ে আসছে। সুখবর সেই ব্যক্তির জন্য যিনি নিজের জীবন ও বয়সকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হয়েছেন, এমনভাবে আত্ম-পর্যালোচনা করেছেন যে চলার পথকে ত্রুটিমুক্ত করেছেন ও ভুলগুলো শুধরে নিয়েছেন এবং দিনে যা করেছেন রাতে তা পর্যালোচনা করেছেন; ভাল হলে তা অব্যাহত রেখেছেন আর মন্দ হলে তা থেকে তওবা করেছেন। কেননা তিনি বিশ্বাস করেন যে, না ফেরার দেশে তাকে সফর করতে হবে। আবু হাতেম ইবনে হিব্বান রহঃ বলেন: ( সবচেয়ে বিচক্ষণ মর্যাদাবান ব্যক্তি তিনিই যিনি সর্বদা আত্ম-সমালোচনা করেন। )

নিজের নফসের ত্রুটি বিচ্যুতি ও ঘাটতিগুলো ধরতে পারলে তা পথভ্রষ্টতা হতে রক্ষা করতে টেনে ধরবে, বান্দা যদি নিজের নফস সম্পর্কে জানে এবং বুঝতে পারে যে এর শেষ পরিণতি হবে কবরস্থান, তবে এই অনুভূতিটা তাকে বিনয়ী হতে ও আল্লাহর ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করবে। ফলে সে কোনো আমল করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগবে না তা যত বড় আমলই হোক না কেন, ঠিক তেমনি কোনো অপরাধকে হেয়জ্ঞান করবে না তা যত ছোট পাপই হোক না কেন।

আপনি যখন মানুষের সাথে উঠাবসা করবেন তখন স্বীয় অন্তরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সদুপদেশ দিন; কেননা মানুষ আপনার বাহ্যিকটা দেখবে, আর আল্লাহ তায়ালা আপনার ভেতরটা মূল্যায়ন করবেন। আর যে ব্যক্তির অন্তর সচেতনতা ও ইখলাছ দ্বারা পরিশুদ্ধ হবে, আল্লাহ তায়ালা তার বাহ্যিক অবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত ও সফলতা দ্বারা সুশোভিত করে দিবেন।

আল্লাহ তায়ালার হক, তাঁর বিশাল দয়া ও অনুগ্রহ সম্পর্কে জানা এবং তাঁর অগণিত নেয়ামত ও নিদর্শনকে স্মরণ করা মুলত আল্লাহর দিকেই ব্যক্তিকে আহ্বান করে। সেই সাথে এ সকল নেয়ামতের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে তার ত্রুটি সে বুঝতে পারে, এও বুঝতে পারে যে তাঁর দিকে ফিরে আসা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই, তাকে আনুগত্য করতে হবে ও পাপ পরিহার করতে হবে, তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে এবং কোনোভাবেই অকৃতজ্ঞ হওয়া চলবে না। ইবনুল কাইয়ুম রহঃ বলেন: ( নিজের নফসের মুহাসাবা বা পর্যালোচনার প্রথম রুকন হচ্ছে: আপনার প্রতি আল্লাহর নেয়ামত এবং আপনার অপরাধগুলোর মাঝে তুলনামূলক পরিমাপ করুন। তাহলেই ব্যবধানটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং আপনি জানতে পাবেন যে, হয় তাঁর ক্ষমা ও অনুগ্রহ রয়েছে অথবা ধ্বংস ও ক্ষতি ছাড়া আর কিছু নেই। )

বস্তুত নিজের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করার ফলে আত্মা পরিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত হয়। আল্লাহ বলেন: [ সে-ই সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।* আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে। ] সূরা আশ শামস: ৯-১০। মালেক বিন দীনার রহঃ বলেন: ( আল্লাহ তায়ালা সেই বান্দার উপর রহম করুন, যে নিজের নফসকে বলে ’তুমি কি এটা করনি? ওটা করনি?’ তারপর নিজের নফসকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করে স্বীয় রবের কিতাব কুরআনের উপর চলতে বাধ্যগত করে তুলে। অবশেষে কুরআন তাকে পরিচালনা করে। )

’আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের কাছ থেকে হিসাব নিবেন’ এ কথাটি ভুলে যাওয়া ও সে বিষয়ে উদাসীনতার কারণে ব্যক্তি আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে যায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন: [ নিশ্চয়ই তারা কখনো হিসাবের আশা করত না। ] সূরা নাবা: ২৭। আর যে ব্যক্তি অন্যায় অপরাধ করে আল্লাহর ক্ষমা ও তাঁর দয়ার উপর ভরসা করে থাকে, সে মূলত নিজের নফসকেই ধোঁকা দেয়। মহা মহিম আল্লাহ অসৎ কর্মের অধিকারী ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করবেন না। তিনি বলেন: [ হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? ] সূরা আল ইনফিতার: ৬। ইবনে কাসীর রহঃ বলেন: ( অর্থাৎ হে আদম সন্তান! তোমার মহান রব সম্পর্কে কিসে তোমাকে ধোঁকায় ফেলল যে তুমি অন্যায় ও পাপকর্ম করে এসেছ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে এসেছ এমন কিছু নিয়ে যা বেমানান। )

যারা দুনিয়ায় আত্ম-সমালোচনা করে, আখেরাতে তাদের হিসাব হালকা হবে। পক্ষান্তরে যারা নফসকে লাগামহীন বে-হিসাবে রাখে, পরকালে তাদের হিসাব কঠিনতর হবে। হাসান বসরী রহঃ বলেন: ( মুমীন বান্দার উচিত নিজের নফসের জবাবদিহিতা করা … আর পাপীষ্ঠরা নফসের জবাবদিহিতা ছাড়াই লাগামহীন চলাফেরা করে। ) আল্লাহ তায়ালা বলেন: [ নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদেরকে শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয় তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সাথে সাথেই তাদের চোখ খুলে যায়। ] সূরা আ’রাফ: ২০১।

অন্যায় অবক্ষয়ে লিপ্ত হওয়ার ইচ্ছা করেও তা পরিত্যাগ করা অধিক সহজ ব্যাপার, অন্যায় করে ক্ষমা চাওয়ার চেয়ে। সৎকর্মে অবহেলা করার কারণে নিজেকে তিরস্কার করুন, ধিক্কার দিন; আপনার সময়গুলো স্থায়ী হবে না, আপনি জানেন না কখন আপনাকে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে যেতে হবে? নিজের নফসকে জিজ্ঞেস করুন ’বিগত দিনে কী আমল করে পাঠিয়েছ? সামনের যে দিনগুলোর মুখোমুখি হবে সেজন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? উমর বিন খাত্তাব রাঃ বলেন: ( হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বেই তোমরা নিজেদের কৃতকর্মের হিসাব নাও, আমলনামা মাপার আগেই তোমরা নিজেরা তা পরিমাপ করে নাও। )

প্রত্যেক দিনের শুরুতেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে মুসলমানদের সাথে জামাতে আদায় করবেন, উপকারী জ্ঞানার্জন ও তা প্রচারের চেষ্টা করবেন এবং মিথ্যা কথা, পরনিন্দা চর্চা, গালিগালাজ করা ও অশ্লীল কথাবার্তা ইত্যাদি হারাম কাজ থেকে নিজের যবানকে হেফাজতে রাখবেন। আপনার উচিত পানাহারে পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক থাকা এবং যা অবৈধ তা পরিহার করা। পিতামাতার খেদমত ও তাদের প্রতি সদ্ব্যবহারে যত্নবান হোন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলুন এবং নিকট ও দূরাত্মীয়দের সেবা করুন। হিংসা, বিদ্ধেষ ও শত্রুতার মনোভাব পরিহার করে হৃদয়কে পবিত্র রাখুন এবং অন্য মুসলিম ভাইয়ের সম্মানহানী করা হতে বেঁচে থাকুন। ’ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ে বাধা’ এই অনুভূতিকে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা করুন এবং স্ত্রী ও সন্তানাদির অধিকার পরিপূর্ণভাবে রক্ষায় সচেষ্ট হোন। রাস্তাঘাট ও অন্যান্য স্থানে হারাম বস্তুর উপর দৃষ্টিপাত করা হতে স্বীয় দৃষ্টিকে অবনত রাখুন।

বস্তুত রাত ও দিন এদুটো ইহকাল থেকে প্রস্থান করছে আর পরকালের দিকে এগিয়ে আসছে। সুখবর সেই ব্যক্তির জন্য যিনি নিজের জীবন ও বয়সকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হয়েছেন। প্রত্যেক দিন শেষে সূর্যের অস্তমিত হওয়াটা আপনাকে এ খবরই দিচ্ছে যে, আপনার আয়ু কমছে। জ্ঞানী তো সে-ই যে তার গতকাল থেকে শিক্ষা নেয়, আজকের দিনে সৎকর্ম সাধনে প্রচেষ্টা করে এবং আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আসন্ন প্রস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিন এবং পাথেয় সংগ্রহ করুন; আর সর্বোত্তম পাথেয় তো তাই যা তাকওয়ার সাথে অর্জন করা হয়। আল্লাহর কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী সেই ব্যক্তি, যিনি তাঁকে অধিক ভয় করেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: [ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; এবং প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা আগামী কালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; তোমরা যা কর নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। ] সূরা হাশর: ১৮।

بارك الله لي ولكم في القرآن العظيم …

 

 দ্বিতীয় খুতবাহ

الحمد لله على إحسانه، والشكر له على توفيقه وامتنانه، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له تعظيما لشأنه، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليما مزيدا.

হে মুসলমানগণ!

মানুষের আয়ুটাই হচ্ছে তার পার্থিব অংশ; চিরস্থায়ী জগতে উপকারে আসবে এমন কিছু করে যে ব্যক্তি তার আয়ুকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে, তার [আখেরাতের] ব্যবসা লাভজনক হবে। আর যদি সে এটার অবমূল্যায়ন করে এবং অধিকনহারে অন্যায় ও পাপে লিপ্ত হয়, তবে তার সমস্ত সম্বল বিনষ্ট হয়ে যাবে। ধন্য সেই ব্যক্তি যিনি তার কাছ থেকে আল্লাহর হিসাব নেয়ার আগেই নিজে নিজের নফসের হিসাব নিয়েছেন, সময়ের মূল্যায়ন করেছেন এবং কোনটা ঔষধ আর কোনটা রোগ তা নির্ণয় করতে পেরেছেন, তিনি অবহেলা করেননি, তাই নিজেও উপেক্ষিত হননি। জেনে রাখুন যে, কল্যাণ রয়েছে আনুগত্য ও সৎকর্মে, আর ক্ষতি রয়েছে অবাধ্যতা ও পাপকর্মে।

মানুষের জীবন হচ্ছে সৎ আমল করার বিশাল-বিস্তৃত ময়দান। কালক্ষেপণে কেবল পরিতাপ ও আফসোস জোটে, আর তওবা গোনাহকে মিটিয়ে দেয়। সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যিনি তার জীবনকে বিসর্জন দিয়েছেন সৎপথে সৎ আমলের মাধ্যমে, আর দূর্ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে তার অবক্ষয়ের কারনে নিজের অঙ্গ-প্রতঙ্গ সাক্ষ্য দিবে। অতএব কবরে সঙ্গী-সাথী বিহীন শায়িত হওয়ার পূর্বেই জীবনের সময়গুলোর প্রতি যত্নশীল হোন এবং আয়ু ফুরিয়ে যাবার আগেই তাকে মূল্যায়ন করুন। আর সামনের নতুন দিনগুলোকে সৎ আমলের দ্বারা সুশোভিত করুন।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর উপর দরুদ ও সালাম পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন:

[ নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দোয়া-ইস্তিগফার করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর সালাত পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। ]
$সমাপ্ত$
————————————————————————–

মসজিদে নববীর খুতবাহ

বিষয়: আত্ম-পর্যালোচনা

খতীব, শাইখ ড. আব্দুল মুহসীন আল কাসেম

ইমাম ও খতীব, মসজিদে নববী, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব

তারিখ: ০৭/০৮/২০২০ইং

অনুবাদ:

হারুনুর রশীদ ত্রিশালী
পি এইচ ডি গবেষক, ফিকহুস সুন্নাহ্… বিভাগ, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়; এবং
বাংলা আলোচক ও জুমার খুৎবার লাইভ অনুবাদক (এফ এম ১০৭.৯ রেডিও চ্যানেল), মসজিদে নববী।

উৎস: Shubban – জমঈয়ত শুব্বানে আহলে হাদীস বাংলাদেশ

পুরুষের স্বর্ণের আংটি ব্যবহারের বিধান

প্রশ্ন: বিয়ের আকদ এর জন্য পাত্রকে পাত্রী পক্ষ থেকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেয়ার ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
.
উত্তর:
উপহার দেয়া নেয়া উত্তম কাজ, কেননা এতে পরস্পরের মাঝে সুসম্পর্ক ও ভালবাসার বন্ধন তৈরি হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতে উৎসাহ প্রদান করেছেন।
عَنِ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ((تَهَادُوا تَحَابُّوا))
আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘‘তোমরা পরস্পরকে উপহার বিনিময় কর, পারস্পরিক সম্প্রীতি লাভ করবে।’’ (বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ৫৯৪, আবু য়্যা’লা ৬১৪৮, সহীহুল জামে’ ৩০০৪)।
উপহার দেয়া নেয়া যখন বৈধ, তখন জানতে হবে আমরা এমন কিছু উপহার দিতে বা নিতে পারব না যা শরীয়ত নিষিদ্ধ করেছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
((إنَّ الله طَيِّبٌ لا يَقْبَلُ إلاَّ طيِّباً)) (صحيح مسلم)
“নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।” (সহিহ মুসলিম)
অতএব, দান-সদকার ক্ষেত্রে, উপহার দেয়ার দেয়া নেয়ার ক্ষেত্রে অথবা খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বদা পবিত্র বা হালাল বস্তুকে প্রাধান্য দিতে হবে।
এছাড়াও স্বর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা এসেছে।
> ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক ব্যক্তির হাতে স্বর্ণের একটি আংটি দেখতে পেয়ে তা খুলে নেন এবং ছুঁড়ে ফেলে দেন। অতঃপর বলেন,
((يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»، فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خُذْ خَاتِمَكَ انْتَفِعْ بِهِ، قَالَ: لَا وَاللهِ، لَا آخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)) (صحيح مسلم)
“তোমাদের কেউ কি ইচ্ছে করে আগুনের অঙ্গার তুলে নিয়ে স্বহস্তে রাখতে পারে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর জনৈক ব্যক্তি লোকটিকে বলল, তোমার আংটিটা তুলে নাও এবং তা (অন্য) কাজে লাগাও। লোকটি বলল, ‘আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন আমি তা কখনই গ্রহণ করব না” (সহীহ মুসলিম)
> আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ لِإِنَاثِ أُمَّتِي، وَحُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهَا»
“আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের নারীদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য হারাম করেছেন”। (সুনানে নাসাঈ ৫২৬৫)
অতএব বলব, স্ত্রী পক্ষ থেকে বরকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেয়া যেমনটি শরীয়ত বিরোধী, ঠিক তেমনি জেনে-বুঝে বরের স্বর্ণের আংটি গ্রহণ করাও শরীয়ত বিরোধী।
তবে স্বর্ণ ব্যতীত ডায়মন্ড বা রৌপ্যসহ অন্যান্য ধাতু দিয়ে তৈরী আংটি উপহার হিসেবে দেয়া নেয়া বৈধ।
আল্লাহু আলাম
……………….
➧ উত্তর প্রদানে:
কাসেম বিন আব্বাস মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।
……………….
➧ উত্তর প্রদানে:
কাসেম বিন আব্বাস মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।